হিজলায় মাদক ও জুয়ার জয়জয়কার: ‘নীরব’ প্রশাসন, অতিষ্ঠ জনজীবন
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, হিজলার টেকের বাজার, গুয়াবাড়িয়া, হরিনাথপুর এবং কাউরিয়া এলাকার নির্জন স্থানসহ অনেক প্রকাশ্য স্থানেও নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। এসব আসরে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে। জুয়ার নেশায় পড়ে অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারে।
অন্যদিকে, মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সন্ধ্যার পর উপজেলার অলিগলিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের একটি বড় অংশ এই মরণনেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন:
"আমরা এখন সন্তানদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাই। মোড়ে মোড়ে মাদকসেবীদের আড্ডা। পুলিশকে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। মনে হয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।"
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মাঝে ছোটখাটো দু-একজন মাদকসেবীকে ধরা হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, তাদের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। তবে জনবল সংকট এবং দুর্গম এলাকা হওয়ার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। খুব শীঘ্রই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
হিজলার সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই মাদক ও জুয়ার আড্ডা বন্ধ করা না গেলে উপজেলায় সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল লোক দেখানো অভিযান নয়, বরং স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।